১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার ভারতের নিউ দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ এ-এর ১৮ নম্বর ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত ৯৩ রানের বিশাল ব্যবধানে নামিবিয়াকে পরাজিত করেছে। এই জয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের রানের ব্যবধানে সবচেয়ে বড় জয়।
ভারতের এবং নামিবিয়ার টস সময়
সন্ধ্যা ৭টায়PM ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে টস করতে নামেন উভয় দলের অধিনায়ক। ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব টসে হারে যাই এবং নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাসমাস টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন।
ভারতের এবং নামিবিয়ার প্লেয়িং ইলাভেন (Playing XI)
ভারতের প্লেয়িং ইলাভেন (Playing XI)
সঞ্জু স্যামসন, ইশান কিষাণ (উইকেট কিপার), তিলক বর্মা, সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), হার্দিক পাণ্ড্য, শিবম দুবে, রিংকু সিং, অক্ষর প্যাটেল, অর্শদীপ সিং, জাসপ্রিত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্তী
নামিবিয়ার প্লেয়িং ইলাভেন (Playing XI)
লরেন স্টিনক্যাম্প, জান ফ্রাইলিংক, জান নিকল লফটিই-ইটন, গেরহার্ড ইরাসমাস (অধিনায়ক), জেজে স্মিট, জেন গ্রিন (উইকেট কিপার), মালান ক্রুগার, রুবেন ট্রাম্পেলম্যান, বার্নার্ড স্কলৎজ, বেন শিকঙ্গো, ম্যাক্স হেইনগো
প্রথম ইনিংস: ভারতের ব্যাটিং ও নামিবিয়ার বোলিং ও মোট স্কোর
প্রথম ইনিংস: ভারতের ব্যাটিং
নামিবিয়ার হয়ে রুবেন ট্রাম্পেলম্যান প্রথম ওভার বোলিং করতে আসেন। ভারতীয় ওপেনিং জুটিতে নামেন সঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিষাণ। বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচে সঞ্জু স্যামসন শুরু থেকেই বিস্ফোরক ব্যাটিং উপহার দেন। তিনি টানা তিনটি ছক্কা এবং একটি চার সাথে ৮ বলে ২২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে আউট হন।
এরপর ইশান কিষাণ ও তিলক বর্মা দ্বিতীয় উইকেটে ৩১ বলে ৭৯ রানের দুরন্ত জুটি গড়েন। পাওয়ার-প্লে-র শেষ ওভারে জেজে স্মিটের বলে ইশান কিষাণ টানা চারটি ছক্কা এবং একটি চার সাথে ২৮ রান সংগ্রহ করেন। পাওয়ার-প্লে-র ৬ ওভারে ভারত ১ উইকেট হারিয়ে ৮৬ রান সংগ্রহ করে, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের সর্বোচ্চ পাওয়ার-প্লে স্কোর।
ইশান কিষাণ মাত্র ২০ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ৭.১ ওভারে অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাসমাসের প্রথম বলেই তিনি ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ২৪ বলে ৬১ রানের এই ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৫টি ছক্কা।
১০.১ ওভারে বার্নার্ড স্কলৎজের বলে সূর্যকুমার যাদব স্টাম্পড হন। তিনি ১৩ বলে ১২ রান করেন। ১১.৫ ওভারে গেরহার্ড ইরাসমাসের বলে তিলক বর্মা ২১ বলে ২৫ রান করে আউট হন। এতে ভারত ১২৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে।
এরপর হার্দিক পাণ্ড্য ও শিবম দুবে পঞ্চম উইকেটে ৩৯ বলে ৮১ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। ১৮.১ ওভারে হার্দিক পাণ্ড্য ২৭ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ১৮.২ ওভারে ডিলান লেইশার নামের বিকল্প ফিল্ডার অসাধারণ ক্যাচ নিয়ে হার্দিক পাণ্ড্যকে আউট করেন। তিনি ২৮ বলে ৫২ রানের ইনিংসে ৪টি চার ও ৪টি ছক্কা হাঁকান।
পরের বলেই রানআউট হন শিবম দুবে ১৬ বলে ২৩ রান করে আউট হন। ১৮.৬ ওভারে ইরাসমাসের বলে অক্ষর প্যাটেল ১ বলে ০ রান করে বোল্ড আউট হন। ১৯.৩ ওভারে রিংকু সিং ৬ বলে ১ রান করে ক্যাচ দিয়ে আউট হন এবং শেষ ওভারে অর্শদীপ সিং ২ বলে ২ রান করে রানআউট হলে ভারত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২০৯ রান সংগ্রহ করে।
প্রথম ইনিংস: নামিবিয়ার বোলিং ও মোট স্কোর
নামিবিয়ার বোলিংয়ে অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাসমাস ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন। বেন শিকঙ্গো ৩ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন। জেজে স্মিট ৪ ওভারে মাত্র ৫০ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন ও বার্নার্ড স্কলৎজ ৪ ওভারে ৪১ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন এবং রুবেন ট্রাম্পেলম্যান ৪ ওভারে ৩৮ রান দিয়ে একটিও উইকেট নিতে পারেনি।
- অতিরিক্ত রান: ৯ ওয়াইড, ১ লেগ বাই
- ভারতের ব্যাটিং স্কোর: ২০৯ রান/৯ উইকেট/২০ ওভার।
দ্বিতীয় ইনিংস: নামিবিয়ার ব্যাটিং ও ভারতের বোলিং ও মোট স্কোর
দ্বিতীয় ইনিংস: নামিবিয়ার ব্যাটিং
২১০ রানের জবাবে নামিবিয়ার ওপেনিং জুটিতে নামেন লরেন স্টিনক্যাম্প ও জান ফ্রাইলিংক। ভারতের হয়ে অর্শদীপ সিং প্রথম ওভার বোলিং করতে আসেন। নামিবিয়া পাওয়ার প্লে-তে দারুণ সূচনা করে। ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে তারা সংগ্রহ করে ৫৭ রান।
৩.৪ ওভারে জান ফ্রাইলিংক অর্শদীপ সিং-এর বলে শিবম দুবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৫ বলে ২২ রান করে আউট হন। ৭.১ ওভারে বরুণ চক্রবর্তী তার প্রথম বলেই লরেন স্টিনক্যাম্পকে বোল্ড আউট করেন। তিনি ২০ বলে ২৯ রান করেন।
এরপর বরুণ চক্রবর্তী ও অক্ষর প্যাটেলের স্পিন তোপের মুখে নামিবিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে। ৯.২ ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর বলে জান নিকল লফটিই-ইটন অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১৩ বলে ১৩ রান করে আউট হন। ৯.৪ ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর পরবর্তী বলেই জেজে স্মিট ২ বলে ০ রান করে বোল্ড হন। একই ওভারে টানা দুই উইকেট হারায় নামিবিয়া।
১০.১ ওভারে অক্ষর প্যাটেলের বলে অধিনায়ক গেরহার্ড ইরাসমাস তিলক বর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে ১১ বলে ১৮ রান করে আউট হন। ১২.৩ ওভারে অক্ষর প্যাটেলের বলে মালান ক্রুগার জাসপ্রিত বুমরাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে ১০ বলে ৫ রান করে আউট হন।
১৬.৪ ওভারে জাসপ্রিত বুমরাহর ইয়র্কারে রুবেন ট্রাম্পেলম্যান ১৬ বলে ৬ রান করে বোল্ড হন। ১৭.৩ ওভারে হার্দিক পাণ্ড্যের বলে বার্নার্ড স্কলৎজ অক্ষর প্যাটেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৪ বলে ৪ রান করে আউট হন এবং ১৭.৪ ওভারে পরের বলেই বেন শিকঙ্গো ১ বলে ০ রান করে এলবিডব্লিউ হন। ১৮.২ ওভারে জেন গ্রিন হিট উইকেটে আউট হন। তিনি ১৯ বলে ১১ রান করেন। নির্ধারিত ১৮.২ ওভারে নামিবিয়া ১১৬ রানে অলআউট হয়।
দ্বিতীয় ইনিংস: ভারতের বোলিং এবং মোট স্কোর ও ম্যাচের ফলাফল
ভারতের বোলিংয়ে বরুণ চক্রবর্তী ২ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন। অক্ষর প্যাটেল ৩ ওভারে ২০ রান দিয়ে ২টি উইকেট এবং হার্দিক পাণ্ড্য ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ২টি উইকেট লাভ করেন। জাসপ্রিত বুমরাহ ৪ ওভারে ২০ রান দিয়ে ১টি উইকেট ও অর্শদীপ সিং ৩ ওভারে ৩৬রান দিয়ে ১টি উইকেট এবং ২.২ ওভারে ১১রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন।
- অতিরিক্ত রান: ৪ ওয়াইড, ৩ নো বল, ১ বাই
- নামিবিয়ার ব্যাটিং স্কোর: ১১৬/১০ উইকেট/১৮.২ ওভার।
ভারত বনাম নামিবিয়ার এক নজরে সম্পূর্ণ ম্যাচ
টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করে ইশান কিষাণের ২৪ বলে ৬১ এবং হার্দিক পাণ্ড্যের ২৮ বলে ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভারত ২০৯ রানের পুঁজি পায়। জবাবে নামিবিয়া পাওয়ার প্লে-তে ভালো শুরু করলেও বরুণ চক্রবর্তী ও অক্ষর প্যাটেলের স্পিন জালে আটকা পড়ে ১৮.২ ওভারে ১১৬ রানে গুটিয়ে যায়। ভারত ৯৩ রানের এই জয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড গড়ে এবং গ্রুপ এ-এর শীর্ষস্থান দখল করে।
ভারত বনাম নামিবিয়ার ম্যাচের ফলাফল ও সারসংক্ষেপ (FAQ)
এই ম্যাচের ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ অ্যাওয়ার্ড কে পেয়েছেন?
এই ম্যাচের ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ভারতের খেলোয়াড় হার্দিক পাণ্ড্য, তার ২৮ বলে ৫২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস-এর জন্য তিনি ম্যান অব দ্যা ম্যাচ অ্যাওয়ার্ড পান।
এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান কে বানিয়েছে?
এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি রান বানিয়েছে ভারতের খেলোয়াড় ইশান কিষাণ, তিনি ২৪ বলে ৬১ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছে।
ভারতের তাদের পরবর্তী ম্যাচ কার বিরুদ্ধে খেলবে এবং কবে?
ভারতের তাদের পরবর্তী ম্যাচ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে এবং ১৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রবিবার সন্ধ্যা ৭টা PM সময় ম্যাচ শুরু হবে।
Your comment will appear immediately after submission.