হোয়াটসঅ্যাপ কি?

হোয়াটসঅ্যাপ (এছাড়াও হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জার বলা হয়) একটি আন্তর্জাতিকভাবে উপলব্ধ ফ্রিওয়্যার, ক্রস-প্ল্যাটফর্ম, সেন্ট্রালাইজড ইন্সট্যান্ট মেসেজিং (আইএম) এবং ভয়েস-ওভার-আইপি (ভিওআইপি) পরিষেবা যা আমেরিকান কোম্পানি মেটা প্ল্যাটফর্মের মালিকানাধীন। এটি ব্যবহারকারীদের পাঠ্য এবং ভয়েস বার্তা পাঠাতে,ভয়েস এবং ভিডিও কল করতে এবং ছবি, নথি, ব্যবহারকারীর অবস্থান এবং অন্যান্য বিষয়বস্তু শেয়ার করতে দেয়। হোয়াটসঅ্যাপের ক্লায়েন্ট অ্যাপ্লিকেশন মোবাইল ডিভাইসে চলে এবং কম্পিউটার থেকে অ্যাক্সেস করা যায়।

পরিষেবাটিতে সাইন আপ করার জন্য একটি সেলুলার মোবাইল ফোন নম্বর প্রয়োজন৷ 2018 সালের জানুয়ারিতে, WhatsApp একটি স্বতন্ত্র ব্যবসায়িক অ্যাপ প্রকাশ করেছে যার নাম WhatsApp বিজনেস যা স্ট্যান্ডার্ড হোয়াটসঅ্যাপ ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ করতে পারে।

ক্লায়েন্ট অ্যাপ্লিকেশনটি মাউন্টেন ভিউ, ক্যালিফোর্নিয়ার হোয়াটসঅ্যাপ ইনকর্পোরেটেড দ্বারা তৈরি করা হয়েছিল, যা ফেব্রুয়ারী 2014 এ প্রায় US$19.3 বিলিয়ন ডলারে ফেসবুক অধিগ্রহণ করেছিল।

এটি 2015 সালের মধ্যে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন হয়ে ওঠে এবং 2020 সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্বব্যাপী এর 2 বিলিয়নেরও বেশি ব্যবহারকারী ছিল। 2016 সাল নাগাদ, এটি ল্যাটিন আমেরিকা, ভারতীয় উপমহাদেশ এবং ইউরোপ ও আফ্রিকার বড় অংশ সহ অঞ্চলে ইন্টারনেট যোগাযোগের প্রাথমিক মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

হোয়াটসঅ্যাপের ইতিহাস

হোয়াটসঅ্যাপ ২০০৯ সালে জ্যান কউম ও ব্রায়ান এক্টন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়।তারা আগে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন ইয়াহু! এর কর্মী ছিলেন।তারা ইয়াহু! ছাড়ার পর ফেসবুক এ নিয়োগ পাবার চেষ্টা করেন,কিন্তু ব্যর্থ হন।এরপর জ্যান কউম তার ইয়াহু! থেকে সংগ্রহকৃত $৪০০,০০০ দিয়ে নতুন কিছু করার কথা ভাবেন। কয়েক বছর পর তিনি একটি আইফোন কেনার পর অ্যাপল এর অ্যাপষ্টোর নিয়ে কিছু পরিকল্পনা করেন।

তিনি তার বন্ধু অ্যালেক্স ফিসম্যা্ন এর সাথে দেখা করেন এবং আইফোন এর জন্য নতুন একটি অ্যাপ তৈরি করার প্রস্তাব করেন। কিন্তু এর জন্য একজন আইফোন ডেভেলপারের প্রয়জন। তাই ফিসম্যা্ন কউমকে ইগর সলমনকিয়েভ নামের একজন রুশ ডেভেলপারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর কউম তাড়াতাড়ি হোয়াটসঅ্যাপ নামটি পছন্দ করেন, কারণ নামটির সাথে ইংরেজি শব্দ “হোয়াটস আপ” এর মিল রয়েছে।

অতঃপর ২৪শে ফেব্রুয়ারি,২০০৯ এ কউম তার জন্মদিনে ক্যালিফোর্নিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপ ইনকরপোরেটেড প্রতিষ্ঠিত করেন। হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপটি শুরুতে খুবই ক্র্যাস করত। কিন্তু এরপর কউম অ্যাপটি হালনাগাদ করেন এবং বাগ ফিক্স করেন।

ঐ সালেই হোয়াটসঅ্যাপ ২.০ বের করা হয় মেসেজ ফিচারের সাথে। এরই সাথে সাথে হোয়াটসঅ্যাপ এর ইউজার ২০০,০০০ ছাড়িয়ে যায়। এরপর কউম তখনও বেকার থাকা এক্টন এর সাথে দেখা করেন এবং হোয়াটসঅ্যাপ এ যোগ দেয়ার অনুরোধ জানান।

এক্টন হোয়াটসঅ্যাপ এ যোগ দেন এবং তার ইয়াহু! তে কর্মরত পুরোনো বন্ধুদের হোয়াটসঅ্যাপ এ ২০০,০০০ ডলার বিনিয়োগ করতে বলেন। তার বিনিয়োগ করার পর এক্টন হোয়াটসঅ্যাপ এর সহপ্রতিষ্ঠাতার খেতাব পান এবং আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন নভেম্বর ১-এ। এরপর ঐ সালেই হোয়াটসঅ্যাপ ফ্রী থেকে পেইড সার্ভিস হয়ে যয়।

২০১১ সালে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপল এর অ্যাপষ্টোর এর অ্যাপতালিকায় সেরা ২০ এ স্থান পায়। ফেব্রুয়ারি,২০১৩ সালে হোয়াটসঅ্যাপ ২০০ মিলিয়ন ব্যবহারকারী ছাড়িয়ে যায়। এপ্রিল ২২,২০১৪ তে, হোয়াটসঅ্যাপ দাবি করে তাদের ৪০০ মিলিয়ন সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছে। জানুয়ারী ২০১৫ তে হোয়াটসঅ্যাপ ৭০০ মিলিয়ন ইউজার এর মাইলফলক স্পর্শ করে। এরপর ১৯ ফেব্রুয়ারি,২০১৫ সালে ফেসবুক প্রায় ১৫০ কোটি ডলারে হোয়াটসঅ্যাপ কিনে নেয়।২০১৮ এর ফেব্রুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৫০ কোটিরও বেশি।

5/5 - (1 vote)
Sharing Is Caring:

মন্তব্য করুন