হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী: জন্মমুহাম্মাদ সাঃ বর্তমান সৌদি আরবে অবস্থিত মক্কা নগরীর কুরাইশ বংশের বনু হাশিম গোত্রে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ আগস্ট বা আরবি রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। প্রখ্যাত ইতিহাসবেত্তা মন্টগোমারি ওয়াট তার পুস্তকে ৫৭০ সাল উল্লেখ করেন।

সুচিপত্র

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী

তিনি ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ আগস্ট বা আরবি রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। প্রখ্যাত ইতিহাসবেত্তা মন্টগোমারি ওয়াট তার পুস্তকে ৫৭০ সাল উল্লেখ করেন।

তাছাড়া মুহাম্মাদ সাঃ নিজে কোনো মন্তব্য করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি; এজন্যই এটি নিয়ে ব্যাপক মতবিরোধ রয়েছে। এমনকি মাস নিয়েও ব্যাপক মতবিরোধ পাওয়া যায়। যেমন, একটি বর্ণনায় এটি ৫৭১ সালের ২৬ এপ্রিল বা রবিউল আউয়াল মাসের ৯ তারিখ হবে;

সাইয়েদ সুলাইমান নদভী, সালমান মনসুরপুরী এবং মোহাম্মদ পাশা ফালাকির গবেষণায় এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তার জন্মের বছরেই হস্তী যুদ্ধের ঘটনা ঘটে এবং সে সময় পারস্যের সম্রাট খসরু আনুশেরওয়ানের সিংহাসনে আরোহণের ৪০ বছর পূর্তি ছিল এ নিয়ে কারো মাঝে দ্বিমত নেই।

রাসূল সাঃ এর জীবনী সংক্ষেপে আলোচনা

যে মানুষটাকে কখনো দেখিনি, যে আর কণ্ঠস্বর কখনো শুনিনি, যার পবিত্র সান্নিধ্যে উপস্থিত হওয়ার সৌভাগ্য কখনো হয়নি, যে মানুষটা আর আমার মাঝে চৌদ্দশ বছরেরও বেশি সময় এর ব্যবধান সে মানুষটা কেমন করে এত আপন হয়ে গেল।

যারা বোঝে না ২১ শতাব্দীতে বসবাস করা শত শত কোটি মানুষ, মধ্যযুগের আরব সমাজের একজন ব্যক্তির প্রতি এতটা টান অনুভব করে কিভাব, তাদের কেমন করে বুঝাবো ইয়া রাসুলুল্লাহ, আপনাকে কেন এত ভালোবাসি।

আপনার স্মরণে আজ শত কোটি অন্তর ভালোবাসায় ভরে ওঠে, প্রতিটি মুহূর্তে পৃথিবীর কোন না কোন অঞ্চলে উচ্চারিত হয় আপনার প্রশংসা, অথচ আপনি যখন পৃথিবীর বুকে আলোকরশ্মি ছড়িয়ে ভূমিষ্ঠ হলেন তখন আপাতদৃষ্টিতে আপনি ছিলেন অনেকটাই নিঃস্ব অসহায়।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর শৈশব এবং কৈশোর কাল

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী: হযরত মুহাম্মদ সাঃ জন্মের আগেই বাবা আব্দুল্লাহ ফিরে গেলেন আল্লাহর কাছে, বয়সে ৬ হতে না হতেই হারালেন মা আমিনা কে, তখনও নিষ্পাপ শিশুটি বুঝতে পারছিল না, যে মাকে কেন্দ্র করেই জীবনের সবকিছু সেই মা চলে যাওয়ার মানে কি,

আপনি অসহায় কন্ঠে বারাকা-কে জিজ্ঞেস করলেন মায়ের কি হয়েছে বারাকা, বারাকা কি করে আপনাকে বোঝাতে আপনি কি হারিয়েছেন।

সে আপনাকে জড়িয়ে ধরে রাখল সে অসহ্য উষ্ণ স্রোত হারায়ে সিদ্ধ হলো আপনার মুখমন্ডল, বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে যে দাদা আপনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন সেই আব্দুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করলেন বছরখানেক পর,

আপাতদৃষ্টিতে এই বিশ্বের বুকে ৮ বছরের সেই নিস্পাপ বালকটির যেন ছিল সবচেয়ে একা, সবচেয়ে অসহায, সবচেয়ে বঞ্চিত, বাস্তবে আপনার রব আপনার জন্য প্রস্তুত করে রেখেছিলেন এমন এক বিস্ময়কর অভিযান যার দিক তো প্রভা স্থান-কালের বাধা ছেদ করে ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র।

বহুবছর পর আল্লাহ, হযরত মুহাম্মদ সাঃ কাছে আয়াত নাজিল করে বলেন :

  • উজ্জ্বল দিনের কসম এবং রাতের কসম যখন তা নিঝুম হয়ে যায়।
  • তোমার রব তোমাকে কখনো পরিত্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি অসন্তুষ্ট হন নি।
  • নিঃসন্দেহে তোমার জন্য পরবর্তী যুগ পূর্ববর্তী যুগের চেয়ে ভালো।
  • আর শীঘ্রই তোমার রব তোমাকে এতো দেবেন যে তুমি খুশি হয়ে যাবে।
  • তিনি কি তোমাকে এতিম হিসেবে পাননি তারপর তোমাকে আশ্রয় দেন নি।
  • তিনি তোমাকে পাওয়া না পাওয়া অবস্থায় পায় তারপর তিনি পথ দেখান।
  • তিনি তোমাকে নিঃস্ব অবস্থায় পান তারপর তোমাকে ধনী করেন।
  • এতিমের প্রতি কঠোর হয়না সাহায্য প্রার্থনা কারীকে তিরস্কার করো না, আর নিজের রবের নেয়ার মত প্রকাশ করো।

আপনার রব আপনাকে এই পৃথিবীর বুকে একাকী করে দিয়েছিলেন যেন তিনি একমাত্র তিনি তাঁর পবিত্র ভালোবাসা আর মমতায় আপনাকে লালন-পালন করতে পারেন।

এবং কি অপূর্ব সেই ভালোবাসা কি অপরূপ সেই প্রতিপালন মহান আল্লাহর বিশেষ রহমতের ছায়াতলে বেড়ে ওঠা আপনি কখনো শির্কের ধোকার শিকার হননি।

তারুণ্যের সেই যাযাবর সময়টাতেও আপনি ছিলেন সব ধরনের অপকর্মের ঊর্ধ্বে, আপনার চরিত্রের সবাই এতটাই মুগ্ধ ছিল আপনার বিশ্বস্ত তাই সবার এত আস্থা ছিল যে তারা আপনাকে নাম ধরে না দেখে ডাকতে লাগল আলামিন, বিশ্বস্ত ব্যক্তি।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর নামকরণ

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জন্ম হওয়ার পরই গর্ভধারিণী আমেনা এই খবর দাদা আব্দুল মুত্তালিবকে পাঠান। খবর পাওয়ার পরেই তিনি ছুটে আসেন। অধিক উৎকর্ষ স্নেহে দেখেন, যত্নের সঙ্গেঁ কোলে নিয়ে কা’বার ভেতর প্রবেশ করেন, আল্লাহর হামদ ব্যাখা করেন ও দোয়া করেন। তারপর তাঁর নাম রাখেন ‘মুহাম্মদ’(প্রশংসিত)।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী আরো বিস্তারিত জানার জন্য ভিডিও দেখুন

×

এই ভিডিও সমস্ত কৃতিত্ব Baseera ইউটিউব চ্যানেল


হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী: দুগ্ধ পান কাল

সর্ব প্রথম ওনাকে তাঁর গর্ভধারিণী হযরত আমেনা দুগ্ধ পান করান। তারপর আবু লাহাবের বাঁদী ‘সুওয়াইবা’ তাকে দুগ্ধ পান করায়। তারপর ধাত্রীর অনুসন্ধান করতে থাকেন। ‘হাওয়াযিন’ বংশের বানী সা’দ এর ভদ্র মহিলা হালীমা ছা’দিয়া এ বিরল সৌভাগ্যের অধিকারী হন।

এরূপ ভাবে যে, আরেক কোন ধাত্রী ছোট বাচ্চা মুহাম্মদকে গ্রহণ করলনা অথবা হালীমা সাদীয়াও অন্য কোন ছোট্ট শিশু পেলনা। ফলে বাধ্য হয়ে রসূল কারীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলেহি ওয়া সাল্লাম কে গ্রহণ করলেন।

গ্রহণ করার পর থেকেই হালীমার কক্ষে ইলাহী বরকতের ঢেউ আরম্ভ হল। দুবছর দুগ্ধ পানের পর গৃহিণী হালীমা ছোট্ট শিশু মুহাম্মদকে নিয়ে তাঁর জননীর নিকট হাজির হন ও সঙ্গে সাথে এই আকাঙ্খাও ব্যক্ত করেন যে, শিশুকে আরো কতিপয় দিনের জন্য তাঁর কাছে যেন থাকতে দেয়া হয়। এদিকে মক্কায় তখন মহামারী চলছিল।

উভয় পক্ষ স্মরণ করে গৃহিণী আমেনা তাঁর শিশুকে হালীমার কাছে ফিরিয়ে দেন। কারণ ছাড়া ভাবে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত হযরত মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলেহি ওয়া সাল্লাম বানী সাদে লালিত পালিত হন। সেখানে উনি তাঁর দুধ ভাইদের সাথে জঙ্গঁলে ছাগল চরাতেন। (সহীহ আল বুখারী, কিতাবুন নিকাহ, সীরাতুননবীঃ ১/১৭২)

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী: দাদা ও চাচার তত্ত্বাবধানে

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) -এর মাতা-পিতার মৃত্যুর পর দাদা আব্দুল মুত্তালিব তাঁর লালন পালনের দায়িত্ব নেন। উনি তাকে ভীষণ কদর করতেন। এমনকি নিজের ছেলেদের উপরও ওনাকে প্রাধান্য দিতেন। নিজের আসনে বসাতেন।

দাদা আব্দুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্তই উনি তাঁর তত্ত্বাবধানে ছিলেন। দাদা আব্দুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পর চাচা আবু তালিব তাঁর রেসপন্সিবিলিটি নেন। তখন তার বয়স ছিল আট বছর। তিনি চাচা আবু তালিবকে বকরী লালন-পালন এবং শাম রাষ্ট্রের ব্যবসার কাজে সাহায্য করতেন।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী: খাদীজা (রাঃ) এর সঙ্গে বিবাহ

পঁচিশ বছর বয়সে মক্কার ধনবতী মেয়ে খাদিজা বিনতে খোয়ালিদের সাথে রাসূল (সাঃ) এর বিয়ে হয়। অভিজাত সতী, ধনবতী, মহিলা খাদিজা নানারকম লোককে পণ্য দ্বারা বিজনেস করাতেন এবং উনি লাভের একটা অংশ গ্রহণ করতেন।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর সততা, সত্যবাদীতা ও বিশ্বস্ততা তখন সুবিদিত ছিল। আল-আমীন, আসসাকিন এর প্রশংসা শুনে উনি তার নিকট ব্যবসার প্রস্তাব পাঠান। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) রাজী হন ও বিজনেস শেষে পর্যাপ্ত বেশি লাভসহ তার সকল কতিপয় বুঝিয়ে দেন।

রাসূলের গুণ আকৃষ্ট ও অপূর্ব সংকেতের কথা শুনে মা খাদিজা বিয়ের প্রস্তাব পাঠায় এবং উভয়ের সম্মতির ভিত্তিতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তখন খাদিজার বয়স ছিল ৪০ বছর। যতদিন তিনি জীবিত ছিলেন রাসূল (সা:) আর কোনো শাদির দরকার অনুভব করেননি।

তারপর আদর্শিক প্রয়োজনে ও রমণী কমিউনিটির নানারকম উপকারের জন্য উনি সর্বমোট ১১টি বিয়ে করেন। দু’জন তার মৃত্যুর পূর্বে মারা যান আর ৯ জনের সাথে উনি বৈবাহিক জীবন অতিবাহিত করেন।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী: শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সাঃ)

মহা গ্রন্থ আল কোরআন, ইতিহাস এর যুক্তি-প্রমাণ এবং নানারকম গ্রন্থের তথ্য অনুসারে রমজান মাসের সম্পন্ন পর্যায়ে মহানবী (সাঃ) এর কাছে আল্লাহর দূত জিবরাইল (আ:) কে দ্বারা ওহী (আল্লাহর বাণী) প্রেরন করেন। এই সময় তার বয়স ৪০ পূরণ হয়। প্রথমে উনি স্বপ্নে সে নিদর্শন পান ও পরে সরাসরি ভাবে আল্লাহর বাণী পেয়েছিলেন।

ওহী নাযিলের সূচনা

বেশীর ভাগ সময় উনি মক্কার প্রসিদ্ধ পাহাড় ‘জাবালে নূরে’ অবস্থিত ‘গারে হেরা’ তথা হেরা গুহায় অবস্থান করতেন ও ধাপে ধাপে কয়েক রাত সেখানে অতিবাহিত করতেন। থাকার ব্যবস্থাও উনি আগে থেকেই করে নিতেন।

এভাবে একদা তিনি হেরা গুহায় তাশরীফ আনেন এইরকম সময় ওনাকে নুবুওয়াতের পদমর্যাদা দিয়ে সৌভাগ্যবান করার পবিত্র মুহুর্ত এসে যায়। জন্মের ৪১ তম বছরে ২৭ ই রজব (হিজরতের ১৩ বছর পূর্বে) মুতাবিক ৬১০ খৃষ্টাব্দ তারিখে জাগ্রত এবং চৈতন্য অবস্থায় এঘটনা সংঘটিত হয়।

আল্লাহর ফেরেশতা জিবরাইল (আঃ) প্রথমবারের মত তাঁর কাছে, পৃথিবীবাসীদের জন্য আল্লাহর সর্বশেষ ঐষীবাণী, বিশ্বমানবতার মুক্তির পথের দিশারী, জ্বিন এবং ইনসানের জন্য পরিপূর্ণ জীবন বিধান ‘আল্ কুরআনুল কারীম’ এর সর্বপ্রথম কথাগুলো নিয়ে তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন।

“পড় তোমার প্রতিপালকের নামে
তাঁর সম্মুখে হেরা গুহায় ফেরেশতা আগমন করেন ও বলেনঃ পড়ুন। উনি উত্তর দিলেন আমি কি ভাবে পড়ব? ফেরেশতা বললেনঃ
‘পড় তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে, তোমার পালনকর্তা মহা দয়ালু।’
যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন। শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতো না”। (সূরা আলাকঃ ১-৫।)

মি‘রাজ তথা উর্দ্ধারোহন

রাসূলুল্লাহ (সঃ) -এর বয়স যখন ৫১ বছর নয় মাস হয়, তখন ওনাকে সশরীরে মর্যাদাপূর্ণ ইসরা এবং মি’রাজ ভ্রমণের দ্বারা সম্মানিত করা হয়। মি’রাজে রাসূলুল্লাহ (সঃ) প্রথমে কা’বা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাসে যান।

এরপর ওখান থেকে এক এক করে সাত আকাশ পার করে মহান আল্লাহর আরশে আজীমে তাশরীফ করেন। এই মি’রাজ সফরে রাসুলুল্লাহ (সঃ) পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে বিধান লাভ করেন। মি’রাজে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ) জান্নাত ও জাহান্নাম স্বচক্ষে দেখছেন।

কখন দাওয়াতের আদেশ পেয়েছিলেন হযরত মুহাম্মদ সাঃ

মহান আল্লাহ তায়ালা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইসলামের দাওয়াতের আদেশ দ্বারা ইরশাদ করে বলেছিলেন, হে চাদরাবৃত ব্যক্তি! ওঠ এবং সতর্ক কর।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ কখন গোপনে ইসলামের দাওয়াত চালিয়েছিলেন

রাসলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় প্রতিপালকের আদেশ যথাযথ পালন করেন ও লুকিয়ে মানুষের মাঝে ইসলাম প্রচার করতে আরম্ভ করেন। 

উনি সর্বপ্রথম নিজ পরিবার- পরিজন এবং বন্ধু-বর্গকে ইসলামের দাওয়াত দেন। সর্বপ্রথম খাদীজা রা. তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করেন। পুরুষদের ভিতরে সর্বপ্রথম আবূ বকর সিদ্দীক (রা), ছোটদের ভিতরে আলী ইবনে আবূ তালিব রা. ও ক্রীতদাসদের ভিতরে যায়েদ ইবনে হারেসা রা. ইসলাম গ্রহণ করেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন বছর পর্যন্ত লুকিয়ে তার নিকটস্থ’ লোকদের মাঝে ইসলাম প্রচার করেছিলেন।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ কখন প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত চালিয়েছিলেন

তিন বছর লুকিয়ে দাওয়াত দেয়ার পর মুহাম্মাদ প্রকাশ্যে ইসলামের প্রচার আরম্ভ করেন। নবী (সাঃ) সাফা পর্বতের উপর দাড়িয়ে চিৎকার করে সকলকে সমবেত করেন। অতঃপর প্রকাশ্যে বলেন যে, আল্লাহ ছাড়া কোন প্রভু নেই ও মুহাম্মাদ আল্লাহ্‌র রাসূল। এ সময় হতে ইসলামের বিপক্ষে ষড়যন্ত্র আরম্ভ হয়।

হযরত মুহাম্মদ সাঃ ধৈর্য ও অবিচল

মুসলমানগণ মুশরিকদের অত্যাচার ও নিপীড়ন ধৈর্য এবং দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করতেন। কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের সবাইকে সাওয়াব এবং জান্নাত লাভের আশায় বিপদে ধৈর্য ধারণ এবং অনড় থাকার পরামর্শ দেন।

মুশরিকদের অত্যাচার ভোগ করেছেন এইরকম কয়েকজন উল্লেখযোগ্য সাহাবী হলেন : বিলাল ইবনে রাবাহ এবং আম্মার ইবনে ইয়াসির রা. প্রমুখ। মুশরিকদের জুলিমের শিকার হয়ে নিহত হয়ে গেছেন ইয়াসির এবং সুমাইয়া রা. ও ইসলামের ইতিহাসে তারাই সর্বপ্রথম শহীদ।

কখন হযরত মুহাম্মদ সাঃ আল-আমীন উপাধি লাভ করেন।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বাল্যকাল হতেই চিন্তামগ্ন থাকতেন। উনি ছিলেন দুর্দশাগ্রস্থ এবং নিপিড়ীত মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল। আরববাসী তার নম্রতা, বিনয়, সত্যবাদিতা এবং সৎস্বভাবের জন্য ওনাকে ‘আল-আমীন’ বা বিশ্বস্ত উপাধিতে সম্মানিত হন।

কোন সময়কালে হযরত মুহাম্মদ সাঃ তায়েফ গমন করেছিলেন

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর আশ্রয়দাতা চাচা আবূ তালিবের মৃত্যুকে কুরাইশরা সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করল। তার ওপর অত্যাচারের মাত্রা অতীতের চেয়ে অনেক বাড়িয়ে দিল। এই কঠিন পরিস্থিতে সাহায্য এবং আশ্রয় পাওয়ার আশায় তিনি তায়েফ যাত্রা করলেন।

কিন্ত সেখানে ঠাট্টা,  উপহাস ও দুর্ব্যবহার ব্যতীত আর কিছুই পেলেন না। তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে পাথর নিক্ষেপ করে আঘাতগ্রস্থ করে। ফলে উনি আবার মক্কায় ফিরে যান।

কোন সময়কালে হযরত মুহাম্মদ সাঃ মদিনায় হিজরত করেছিলেন

কুরাইশরা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে করার ষড়যন্ত্র করে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয় এবং আল্লাহ তায়ালা তাকে রক্ষা করেন। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) স্বীয় ঘর থেকে বের হন এবং আল্লাহ তাআলা কাফেরদের চোখ অন্ধ করে দেন যাতে তারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখতে না পারে। 

উনি চলতে চলতে মক্কার বাইরে আবু বকর সিদ্দীক রা. এর সঙ্গে মিলিত হন। এরপর তারা এক সঙ্গেই পথ চলা আরম্ভ করেন। সওর নামক পাহাড়ে পৌঁছে ১টি গুহায় তিন দিন পর্যন্ত আত্মগোপন করেন। এ সময়টিতে আব্দুল্লাহ বিন আবূ বকর রা. তাদের কাছে কুরাইশদের খবর পৌঁছাতেন এবং তার বোন আসমা খাবার ও পানীয় পৌঁছে দিতেন।

অতঃপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার সঙ্গী আবু বকর (রা) গুহা থেকে বের হন এবং মদীনার রাস্তায় যাত্রা আরম্ভ করেন।

মদীনায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় পৌঁছে তাকওয়ার ভিত্তিতে ইসলামের সর্বপ্রথম মসজিদ তৈরি করেন। বর্তমানে মদীনা শরীফে এই মসজিদটি “মসজিদে কু’বা” নামে পরিচিত। মদীনাতে রাসুল (সাঃ) সর্বপ্রথম যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তা হচ্ছে মসজিদে নববী নির্মাণ ও আনসার এবং মুহাজিরদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন।

মক্কা বিজয় সময়কাল

হুদায়বিয়ার সন্ধির পর হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বিভিন্ন গোত্রে তাঁর দাওয়াতী কর্মসূচী বহু পরিমাণে বিস্তৃতি ঘটাতে যোগ্য হন। ফলে এক সালের মাথায় মুসলমানদের সংখ্যা বহু হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মাঝে কুরাইশদের সঙ্গে বন্ধুত্ব চুক্তিতে সীমাবদ্ধ বনু বকর মুসলমানদের বন্ধু কবীলায়ে খুযা‘আর ওপর আক্রমণ করল।

এর অর্থ দাঁড়াল কুরাইশ ও তার মিত্ররা হুদায়বিয়ার সন্ধি চুক্তি ভঙ্গ করল।
নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই খবর পেয়ে অত্যধিক রাগান্বিত হন ও মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে দশ হাজার যোদ্ধার ১টি বড় সেনাদল গঠন করেন।

তখন ছিল হিজরী ৮ম বর্ষের রমযান মাস। এদিকে কুরাইশরা নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মক্কাভিমুখে অভিযানের খবর পেয়ে তাদের নেতা ও মুখপাত্র আবূ সুফিয়ানকে ক্ষমা প্রার্থনা, সন্ধি চুক্তি বলবৎ ও চুক্তির মেয়াদ আরো বাড়ানোর জন্য প্রস্তাব দ্বারা নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে প্রেরণ করেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের ক্ষমার আবেদন নাকচ করে দিলেন। কারণ তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। আবূ সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ ব্যতিত আর কোন উপায় না দেখে ইসলাম করেন।

অতঃপর সেনাদল (মক্কাভিমুখে) রওয়ানা হয়ে মক্কার কাছাকাছি প্রকৃতপক্ষে মক্কাবাসী সুবিশাল দল দেখে আত্মসমর্পণ করে। আর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের সঙ্গে নিয়ে বিজয়ী সাথে মক্কায় প্রবেশ করেন।

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন ও নিজস্ব হাতের লাঠি মাধ্যমে কা‘বার আশেপাশে রাখা সব প্রতিমা ভেঙে চুরমার করে দেন। আর স্বীয় রবের শেখানো আয়াত পাঠ করতে থাকেন,

“বল, সত্য এসেছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, নিশ্চয় মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই ছিল।” (সূরা ইসরা : ৮১)

এরপর নবী আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকলের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। ঘোষণা করেন মক্কা পবিত্র এবং নিরাপদ।

কি বলেছিলেন হযরত মুহাম্মদ সাঃ বিদায় হজ্জের ভাষণে

১০ম হিজরী সনে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদেরকে তাঁর সঙ্গে হজব্রত পালন এবং হজের আহকাম শিক্ষা স্বীকার করতে মক্কায় যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান।

তাঁর আহ্বানে লক্ষেরও অধিক সাহাবি উপস্থিত হলেন। তাঁরা যুলকা’দাহ্‌ মাসের পঁচিশ তারিখ তাঁর সঙ্গে মক্কা পানে বের হন। বাইতুল্লায় পৌঁছে শুরুতে তওয়াফ করেন। এরপর যিলহজ্জ মাসের আট তারিখ মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।

অতঃপর নয় তারিখ জাবালে আরাফাহ অভিমুখে করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে অবস্থান করেন ও মুসলমানদের উদ্দেশ্যে তার ইতিহাস সম্পর্কিত অমর ভাষণ অৰ্পণ করে তাদের সবাইকে ইসলামী বিধি-বিধান এবং হজের আহকাম শিক্ষা দেন ও আল্লাহ তাআলার নিম্নোক্ত বাণী তিলাওয়াত করেন-

“আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম। তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করে দিলাম ও ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।”

বিদায় হজ্জ হতে ফেরার পর হিজরী ১১ সালের সফর মাসের মধ্যে মুহাম্মদ (স) জ্বরে আক্রান্ত হন। জ্বরের তাপমাত্রা প্রচন্ড হওয়ার কারণে পাগড়ির উপর থেকেও অনুভূত হচ্ছিল। অসুস্থ অবস্থাতেও উনি এগারো দিন নামাজের ইমামতি করেন।

অসুস্থতা হওয়ার পর উনি সকল স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে আয়েশা (রাঃ)এর কামরায় অবস্থান করতে থাকেন। তাঁর নিকট সাত কিংবা আট দিনার ছিল,মৃত্যুর একদিন পূর্বে উনি এগুলোও দান করে দেন। সর্বশেষে ১১ হিজরী সালের রবিউল আউয়াল মাসের ১ তারিখ সন্ধ্যায় উনি মহান প্রতিপালকের সান্নিধ্যে চলে যান। এ সময় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) -এর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর।

সর্বোপরি, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) পৃথিবী শান্তি প্রতিষ্টায় এক অনন্য নজির স্থাপন করেন, সর্বক্ষেত্রে উনি ছিলেন সফল ব্যক্তিত্ব।

To recap my top picks:

  1. হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী
  2. রাসূল সাঃ এর জীবনী সংক্ষেপে আলোচনা
  3. হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর শৈশব এবং কৈশোর কাল
  4. হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর নামকরণ
  5. হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী: দুগ্ধ পান কাল
  6. হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী: দাদা ও চাচার তত্ত্বাবধানে
  7. হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী: খাদীজা (রাঃ) এর সঙ্গে বিবাহ
  8. হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী: শান্তি প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সাঃ)
  9. ওহী নাযিলের সূচনা
  10. মি‘রাজ তথা উর্দ্ধারোহন
  11. কখন দাওয়াতের আদেশ পেয়েছিলেন হযরত মুহাম্মদ সাঃ
  12. হযরত মুহাম্মদ সাঃ কখন গোপনে ইসলামের দাওয়াত চালিয়েছিলেন
  13. হযরত মুহাম্মদ সাঃ কখন প্রকাশ্যে ইসলামের দাওয়াত চালিয়েছিলেন
  14. হযরত মুহাম্মদ সাঃ ধৈর্য ও অবিচল
  15. কখন হযরত মুহাম্মদ সাঃ আল-আমীন উপাধি লাভ করেন।
  16. কোন সময়কালে হযরত মুহাম্মদ সাঃ তায়েফ গমন করেছিলেন
  17. কোন সময়কালে হযরত মুহাম্মদ সাঃ মদিনায় হিজরত করেছিলেন
  18. মদীনায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা
  19. মক্কা বিজয় সময়কাল
  20. কি বলেছিলেন হযরত মুহাম্মদ সাঃ বিদায় হজ্জের ভাষণে
মানুষও জিজ্ঞেস করে

হযরত মুহাম্মদ সাঃ, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবন কাহিনী, হযরত মুহাম্মদ সাঃ কিসের তৈরি, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর পিতা ও মাতার নাম কি, হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবনী রচনা, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর পুরো নাম, হযরত মুহাম্মদ সাঃ জন্মদিন, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর মাতার নাম কি, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর কবর কোথায়, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জন্ম তারিখ ২০২২, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর মৃত্যু তারিখ, হযরত মুহাম্মদ সাঃ রচনা, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী রচনা, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জন্ম দিন, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর দাদার নাম কি, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর রাজস্ব ব্যবস্থা, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জন্ম তারিখ ইংরেজি, হযরত মুহাম্মদ সাঃ জীবনী বই, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জন্ম স্থান কোথায়, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জন্মদিন, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর বংশধর, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর বিবিদের নাম, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর জীবনী রচনা, হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর নাম সমূহ nobijir jiboni, nobir jiboni, nobider jiboni, rasuler jiboni, nobijir jiboni bangla,

4.6/5 - (7 votes)

মন্তব্য করুন